শুক্রবার   ১৭ জানুয়ারি ২০২০   মাঘ ৪ ১৪২৬   ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

বরিশাল প্রতিবেদন
ব্রেকিং:
আদালতে মজনুর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাউন্ড সিস্টেমে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা যাবে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এসএসসি শুরু ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধনে উত্তীর্ণদের সনদ ১৯ জানুয়ারি প্রথম আলোর সম্পাদকসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ২৫ জানুয়ারি থেকে এক মাস কোচিং সেন্টার বন্ধ আমরা ক্রসফায়ারকে সাপোর্ট করতে পারি না : ওবায়দুল কাদের পোশাক রপ্তানিকে ছাড়িয়ে যাবে আইসিটি : জয় বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শুরু কাল বিশ্ব ইজতেমার ২য় পর্বে ময়দানে আসতে শুরু করেছেন মুসল্লিরা অন্ধকার ভেদ করে আলোর পথে বাংলাদেশ: সংসদে প্রধানমন্ত্রী রিফাত হত্যা : দুই আসামি জামিনে মুক্ত মেয়র সাদিকের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজি করে র‌্যাবের জালে ২ প্রতারক দুর্নীতি মামলা : বিএনপি প্রার্থী ইশরাকের বিচার শুরু বরিশালে সড়কের জায়গায় অনুমোদনহীন ভবন উচ্ছেদে বিসিসি কাদেরের বাইপাস পরবর্তী স্বাস্থ্যের উন্নতি, দেশে ফিরছেন রাতেই  এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশ সঠিক পথে রয়েছে : প্রধানমন্ত্রী আবুধাবি থেকে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী সরকারের জনপ্রিয়তা অনেক বেড়েছে: আইআরআই ওমানের সুলতানের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তা
৪২২

এই শীতে শিশুর যত্ন

প্রকাশিত: ১৭ নভেম্বর ২০১৮  

 


দিনেরবেলা গরম, সন্ধ্যায় ও রাতে শীতের আমেজ। এই মৌসুমের এই  মিশ্র আবহাওয়ায় বড়দেরই খাপ খাওয়াতে সমস্যায় পড়তে হয়। সেখানে ছোটদের আরও বেশি সমস্যা। 
স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্যে প্রথমে চলে আসে সাধারণ জ্বর, ঠান্ডাজনিত সর্দি-কাশির কথা। বিশেষত শীতের শুরুতে তাপমাত্রা যখন কমতে থাকে, তখনই এর প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। এটা মূলত শ্বাসতন্ত্রের ওপরের অংশের রোগ।আর শীতে শিশুরা একটু বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে। তবে দুশ্চিন্তা না করে এ সময়টাতে শিশুদের বিশেষ যত্ন নিলে আপনার সোনামণিও সুস্থ থাকবে।
তাছাড়া শিশুদের ত্বক খুব সংবেদনশীল। শীতের আর্দ্র আবহাওয়াতে শিশুর ত্বক হয়ে যায় শুষ্ক ও নিষ্প্রাণ। শুষ্ক চামড়ার কারণে শিশুরা আরও বেশি সমস্যার সম্মুখীন হয়। তাই অন্য ঋতুর চাইতেও শীতকালে প্রয়োজন বাড়তি সতর্কতা।
তাই শীতের নানা সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে বাবা মাকে কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলা উচিৎ যা নিম্নে বর্ণিত হলঃ

♦ শীতে শিশুকে আরামদায়ক  কিছু বাড়তি গরম পোষাক গায়ে দিতে দিবেন। তার মাথা, ঘাড়, কান, হাত এবং পা ভালো ভাবে গরম কাপড়ে ঢেকে রাখার ব্যবস্থা করুন। আর অবশ্যই শিশুদের জন্য কয়েক সেট শীতের কাপড় ব্যবহার করবেন এবং দুই থেকে তিন দিন অন্তর অন্তর তা পরিস্কার করে ধুয়ে ভালো করে রোদে শুকিয়ে নিবেন। তবে শিশুকে কখনোই অতিরিক্ত গরম পোষাক পরিয়ে রাখবেন না।

♦ শীতে শুধু যে ঠাণ্ডা লাগার কারণেই শিশুরা অসুস্থ হবে তা কিন্ত নয় বরং শীতকালীন অসুখের মূল কারণ বায়ুবাহিত বিভিন্ন রোগজীবাণু।  যা সহজেই ছড়িয়ে পড়ে এবং রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটায়। আর এই রোগজীবাণু  বিশেষ করে শিশুদেরই সহজে আক্রমণ করে।
এইসময় বাতাসে ধুলোবালির পরিমানও বেড়ে যায়, যা শ্বাস প্রশ্বাসের সাথে নাক দিয়ে ফুসফুসে প্রবেশ করলে গলায় কিংবা নাকে প্রদাহ, সর্দি, কাশি সহ বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। আর মাত্রাতিরিক্ত দূষিত ধুলো শিশুদের নিউমোনিয়া কিংবা ব্রঙ্কাইটিসের মতো সমস্যাও সৃষ্টি করতে পারে।
ভালো ভাবে হাত না ধুলে এর মাধ্যমে অনেক রোগ ব্যাধি ছড়ায়। বিশেষ করে শিশুদের ভালো ভাবে হাত ধোয়ার অভ্যাস করাতে হবে। শীতে গরম পানিতে শিশুকে হাত ধুতে দিন, কারণ ঠান্ডা লাগার ভয়ে শিশু ভালো ভাবে হাত না ধুলে সর্দি, কাশি ও নিওমোনিয়ার জীবানুতে আক্রান্ত হবার ভয় থাকে।

♦ শিশুর জন্য অধিক শোষণ ক্ষমতার ডায়াপার ব্যবহার করতে হবে। শীতকালে ডায়াপার ভিজে গেলে বা লিক করলে বাচ্চার ঠান্ডা লেগে যাবার সম্ভাবনা থাকে। আর এজন্যই উচ্চ শোষণ ক্ষমতার এবং লিক-প্রুফ ডায়াপার ব্যবহার করতে হবে। এবং তা অবশ্যই প্রতি ছয়ঘন্টা পরপর  চেঞ্জ করে দিন, যদিও তা শুকনো থাকে।

 ♦শীতে সবার ত্বক থেকেই পানি হারায়।আর এই কারনে  ত্বক শুস্ক ও রুক্ষ হয়ে যায়।তবে শিশুদের ত্বক অধিক সংবেদনশীল হওয়ায় শিশুরা এই সমস্যার বেশি সম্মুখীন হয়। আর তখন  বিভিন্ন চর্ম রোগ আক্রমন করে। শীতে চাই ত্বকের পর্যাপ্ত ময়েশ্চারাইজার। শীতকালে আপনার বাচ্চা স্কুলে অন্যদের মাধ্যমে কিছু ছোঁয়াচে চর্মরোগে আক্রান্ত হতে পারে। শীতে শিশুর ত্বকের যত্ন নিতে বিশেষ খেয়াল রাখুন। নিয়মিত লোশন লাগান যেন ত্বক শুষ্ক হয়ে না যায়।

♦শীত বলে পরিচ্ছন্নতায় অবহেলা না করে শিশুকে নিয়মিত গোসল করান। গোসলের পর বাচ্চার মাথা ও শরীর ভালো করে মুছে তারপর জামা কাপড় পরাবেন। আর এই শীত মৌসুমে শিশুদের  দুপুর ১২ টার আগে গোসল করানো উচিত।

♦ শীতে যে কোন শিশুর ত্বকের যত্নে সব থেকে যেটি বেশি জরুরী সেটা হল ময়েশ্চারাইজার। শিশুর ত্বক শুষ্ক থেকে আর্দ্র করার প্রক্রিয়াকে ময়েশ্চারাইজার বলে। গোসলের পর বাচ্চাদের উপযোগী অলিভ ওয়েল অথবা ময়েশ্চারাইজিং বেবি লোশন ব্যবহার করুন। শিশুকে গোসল করানোর পর নরম কোন বেবি টাওয়েল দিয়ে শরীর মুছিয়ে তারপর মশ্চারাইজার লাগাতে হয়।

♦শীতকালীন ঠান্ডা আবহাওয়া থেকে শিশুকে সুরক্ষা দিতে খোলামেলা পরিবেশে খুব বেশি খেলাধুলা করতে না দেয়ায়ই ভালো। খুব বেশি ঠান্ডা আবহাওয়া শিশুদের অনেক ক্ষতি করে আর কঠিন রোগে আক্রান্ত হওয়ার সুযোগ করে দেয়। আরও লক্ষ্য রাখবেন শিশু যেন মেঝেতে খালি পায়ে না হাঁটে। শিশুর জন্য বাসায় ব্যবহার উপযোগী জুতা কিনতে পারেন পাশাপাশি ঘরের মেঝেতেও মাদুর বা মোটা কাপড় বিছিয়ে দিতে পারেন। তাহলে মেঝেতে বসে খেলা করলেও ঠাণ্ডা লাগবে না।

♦ আপনার শিশুকে শীতকালীন  ফলমূল ও শাকসবজি খেতে দিন। এতে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। আর তাতে করে আপনার বাচ্চার শুধু শীতের রোগ বরং অন্য সকল রোগের ঝুঁকিও কমে যাবে।  আসল কথা বাচ্চার ভিটামিন এর চাহিদা প্রাকৃতিক ভাবেই পূরণ করুন।
এছাড়া দৈনিক এক চামচ মধু খাওয়ান তাতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে ও সর্দি-কাশি কিংবা ঠাণ্ডা লাগার ঝামেলা একদম কমে যাবে।

 ♦ শীত মৌসুমে শিশুরা যাতে ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানি বা আইসক্রিম খাওয়া থেকে বিরত থাকে সেই দিকে লক্ষ্য রাখবেন।

♦ সর্বোপরি, আপনার শিশুর যে কোন স্বাস্থ্যগত জটিলতায় বিশেষজ্ঞ শিশু চিকিৎসক এর পরামর্শ নিন।