বুধবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ২ ১৪২৬   ১৮ মুহররম ১৪৪১

বরিশাল প্রতিবেদন
ব্রেকিং:
আজ গাজীপুর যাবেন প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ দূষণ: ৪ প্রতিষ্ঠানকে কোটি টাকা জরিমানা স্বর্ণজয়ী রোমান সানার মায়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী আরো দু’টি বোয়িং বিমান কেনার ইঙ্গিত দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দির তথ্য ডাটাবেজে থাকবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ: প্রধানমন্ত্রী অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ‘রাজহংস’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী দুই মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার বেড়েছে ৪.৪৮ শতাংশ উদ্বোধনের দিনেই পদ্মাসেতুতে ট্রেন চলবে: রেলমন্ত্রী ৮ হাজার ৯৬৮ কোটি ৮ লাখ টাকার প্রকল্প একনেকে অনুমোদন ভারতীয় কোস্টগার্ড ডিজির সঙ্গে রীভা গাঙ্গুলির বৈঠক বরিশালে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টের উদ্বোধন ইসির চুরি যাওয়া ল্যাপটপ উদ্ধার, আটক ৩ আজ মহান শিক্ষা দিবস প্রধানমন্ত্রী ‘রাজহংস’ উদ্বোধন করবেন আজ রোহিঙ্গা ভোটার: ইসি কর্মচারীসহ আটক ৩ রিফাত-মিন্নির নতুন ভিডিও, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য ‘বিজ্ঞান-প্রযুক্তির বিকাশ ছাড়া দেশ উন্নয়ন করা সম্ভব নয়’ রোহিঙ্গা ভোটার খতিয়ে দেখতে চট্টগ্রামে কবিতা খানম আগামী ১০মাসের রোডম্যাপ তৈরি ও তার বাস্তবায়ন করবো - জয় ও লেখক
৪২৯

আয়ু কমে যাওয়ার পেছনে দায়ী যেসব অভ্যাস

প্রকাশিত: ১ জানুয়ারি ২০১৯  

মানুষ অভ্যাসের দাস- হোক না সেটা খারাপ কিংবা ভালো। ভালো অভ্যাস যেমন জীবনকে উন্নত করে, তেমনি মন্দ অভ্যাসগুলো জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এমন অনেক বাজে অভ্যাস রয়েছে যা আপনার স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে জীবনকালের দৈর্ঘ্য কমিয়ে ফেলে। এখানে আপনার আয়ু কমাতে পারে এমন ৯টি দৈনন্দিন অভ্যাস সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

* মধ্যরাতে স্ন্যাকস খাওয়াঃ
মধ্যরাতে মিষ্ট বা লবণাক্ত স্ন্যাকস জাতীয় খাবার হৃদরোগ অথবা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।এক  গবেষণায় দেখা যায়, ‘এই অভ্যাস হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়, কারণ রাতের খাবার খাওয়ার পর ট্রাইগ্লাইসারাইডের মাত্রা বেড়ে যায়।ট্রাইগ্লাইসারাইড হচ্ছে বিপজ্জনক রক্ত চর্বি যা ফ্যাটি টিস্যুতে (বেশিরভাগই আপনার পেটের চারপাশে) জমা হয় এবং আপনি এসব থেকে সহজে মুক্ত হতে পারবেন না।’আপনাকে সর্বোত্তম যে কাজটি করতে হবে তা হচ্ছে, রাতে যথাসম্ভব কম খাওয়ার চেষ্টা করা এবং রাতের খাবার ও সকালের খাবারের মধ্যে ব্যবধান যেন ১১ থেকে ১২ ঘণ্টা থাকে।’

* অত্যধিক ভিডিও দেখা
রাত জেগে টিভি বা নেটফ্লিক্স বা ইউটিউব বা অন্যান্য উপায়ে ভিডিও দেখা আপনার ঘুমের পরিধি কমিয়ে ফেলে। একটি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব প্রাপ্তবয়স্ক তরুণ অত্যধিক ভিডিও দেখেছিল তাদের নিম্ন স্লিপ কোয়ালিটিতে ভোগার সম্ভাবনা যারা ভিডিও দেখায় আসক্ত ছিল না তাদের তুলনায় ৯৮ শতাংশ বেশি ছিল। আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব স্লিপ মেডিসিনের সভাপতি এবং পেরেলম্যান স্কুল অব মেডিসিনের ক্লিনিক্যাল মেডিসিনের অধ্যাপক আইলিন এম. রোসেন বলেন, ‘এমনকি এক রাতের বিঘ্নিত ঘুম দিনে অত্যধিক নিদ্রালুভাবের কারণ হতে পারে, যা আপনাকে মারাত্মক গাড়ি দুর্ঘনায় বা কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় ফেলতে পারে।’ এক রাতের বিঘ্নিত ঘুম কিভাবে বিপজ্জনক হতে পারে? 
বিঘ্নিত ঘুমের পর পারফরম্যান্স (এমনকি এক রাতের বিঘ্নিত ঘুমও) মাতাল লোকের পারফরম্যান্সের সমান।’ বেশিরভাগ মানুষ ইতোমধ্যে ক্রনিক ঘুমের ঘাটতিতে থাকে বলে এক রাতের বিঘ্নিত ঘুমও অবস্থাকে আরো খারাপ করতে পারে। দ্য আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব স্লিপ মেডিসিন সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যের জন্য প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিরাতে সাত ঘণ্টা বা আরো বেশি সময় ঘুমাতে পরামর্শ দিচ্ছে।

* লবণের প্রতি আসক্তিঃ
যদি আপনি প্রত্যেক খাবারেই লবণ খান, তাহলে আপনি আপনার স্বাস্থ্যকে বিপদের মধ্যে রাখছেন, কারণ ডায়েট-সম্পর্কিত মৃত্যুর ৯.৫ শতাংশই ঘটিয়ে থাকে অত্যধিক লবণাক্ত খাবার, জার্নাল অব দ্য আমেরিকান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে। অত্যধিক লবণ হার্ট অথবা কিডনিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। গবেষণায় হৃদরোগ, স্ট্রোক ও টাইপ ২ ডায়াবেটিসে মৃত্যুর ৪৫.৪ শতাংশের সঙ্গে অত্যধিক লবণাক্ত খাবারের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। খাবার-সম্পর্কিত মৃত্যুর প্রধান কারণ হচ্ছে অত্যধিক লবণ খাওয়া।

* ভালোভাবে হাত না ধোয়াঃ
সঠিকভাবে হাত ধোয়া না হলে আপনার হাতে জীবাণু লেগে থাকবে। অপরিষ্কার হাতের মাধ্যমে অনেক খাদ্যবাহিত অসুস্থতা ছড়ায়, কিন্তু সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়া ডায়রিয়া রোগ সম্পর্কিত মৃত্যুর সংখ্যা অর্ধেক কমিয়ে ফেলে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন অনুসারে, ভালোভাবে হাত না ধোয়ার ফলে ২০০৩ সালে সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিন্ড্রোমের (এসএআরএস) প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল- সঠিকভাবে হাত ধোয়া এ ধরনের বিপজ্জনক শ্বাসপ্রশ্বাসীয় অসুস্থতা ছড়ানো প্রতিরোধ করতে পারে।

* ফ্লসিং এড়িয়ে যাওয়াঃ
আমরা জানি যে, মাড়ির রোগ মৃত্যুর ঝুঁকি বৃদ্ধি করে, কিন্তু নিয়মিত ফ্লসিং আপনার আয়ু ছয় বছর বাড়াতে পারে, বলেন নিউ ইয়র্ক সিটির ডেন্টিস্ট সাউল প্রেসনার। তিনি যোগ করেন, ‘অনুমান করা হয় যে, ফ্লসিং মুখের মাইক্রোঅর্গানিজম বা জীবাণু হ্রাস করে, এভাবে এটি মুখের প্রদাহ কমায়। মাড়িতে প্রদাহ যত কম হবে মাড়ি থেকে রক্তক্ষরণের সম্ভাবনা তত কমে যাবে- এর ফলে মুখ থেকে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস রক্তপ্রবাহে প্রবেশের ঝুঁকিও হ্রাস পাবে।’

* অনিরাপদ যৌনসহবাস করাঃ
অনিরাপদ যৌনসহবাস আপনার মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।’ বর্তমানে এইচআইভি/এইডসকে ‘ডেথ সেনটেন্স’ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না এবং এটি অনেকক্ষেত্রে চিকিৎসাযোগ্য, কিন্তু তা সত্ত্বেও এটি আপনার স্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় ঝুঁকি এবং তা আপনার জীবনকালের দৈর্ঘ্য কমায়, বলেন ডা. মুর। তিনি যোগ করেন, ‘অন্যান্য যৌন সংক্রমিত রোগও জীবননাশক হতে পারে, বিশেষ করে হেপাটাইটিস। যৌন সংক্রমিত রোগ থেকে নিরাপদ থেকে সহবাসের সময় কনডম ব্যবহার করুন।’

* নখ কামড়ানোঃ
নখ কামড়ানো কি আপনার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে? এটি শুধু বাজে অভ্যাসই নয়, নখ কামড়ানোর মাধ্যমে ওরাল ব্যাকটেরিয়া (যেমন- এইকেনেলা করোডেনস) অথবা স্কিন ব্যাকটেরিয়া (যেমন- স্ট্রেপটোকক্কাস অথবা স্ট্যাফাইলোকক্কাস) ত্বকের সংস্পর্শে আসতে পারে, বলেন ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত জর্জ ওয়াশিংটন স্কুল অব মেডিসিন অ্যান্ড হসপিটালের ডার্মাটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক অ্যাডাম ফ্রাইডম্যান। তিনি যোগ করেন, ‘নখ কামড়ানোর ফলে আপনার প্যারোনাইশিয়া (নেইল ফোল্ডের চারপাশে ইনফেকশন, যেখানে ফোলা ও ব্যথা সৃষ্টি হয়), ফেলন (ফিঙ্গার প্যাডের স্ট্রেপ ইনফেকশন, যা অতি বেদনাদায়ক) এবং অন্যান্য ইনফেকশন হতে পারে। আপনার রক্তপ্রবাহে ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করতে পারে এবং সেপসিস সৃষ্টি হতে পারে- সেপসিস হচ্ছে একটি সম্ভাব্য জীবননাশক রক্ত সংক্রমণ।’

* ব্রণ ফাটা
ব্রণ আছে এমন প্রত্যেকেরই ব্রণ ফাটার অভ্যাস রয়েছে (তারা স্বীকার করুক কিংবা না করুক), কিন্তু ব্রণ ফাটার এই অভ্যাস স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।ব্রণ ফাটলে ত্বকের ভেতর আগ্রাসী ও ইনভেসিভ ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করতে পারে।’ ব্রণের ক্ষেত্রে ত্বকের ওপরের কিছু ব্যাকটেরিয়া পরিবর্তিত হয়। আমাদের হেয়ার ফলিকলে বাস করতে পছন্দ করে এমন একটি গ্রাম-পজিটিভ ব্যাকটেরিয়া হচ্ছে পি. অ্যাকনি- ব্রণে এটির সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং স্ট্যাফ ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যাও বেড়ে যায়। প্রকৃতপক্ষে, মিথিসিলিন রেজিস্ট্যান্স স্ট্যাফ অরিয়াস (এমআরএসএ) ফোঁড়া, ফুরুঙ্কলস (হেয়ার ফলিকলের ফোঁড়া) ও কারবাঙ্কলসের (গুচ্ছবদ্ধ যন্ত্রণাদায়ক লাল ফোঁড়া) মতো স্কিন ইনফেকশন সৃষ্টি করতে পারে। ব্রণ ফাটলে এমআরএসএ সহজেই রক্তনালীর নেটওয়ার্ক, চোখ এবং এমনকি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রেও প্রবেশ করতে পারে।’

* ব্রেকফাস্ট এড়িয়ে যাওয়াঃ
বোস্টনের পুষ্টিবিদ ডানা গ্রীন বলেন, ‘আসলেই দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার হচ্ছে, সকালের খাবার বা ব্রেকফাস্ট।’ তিনি যোগ করেন, ‘ব্রেকফাস্ট সারাদিন আপনার ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে- তাই যদি আপনি ব্রেকফাস্ট না করেন, তাহলে দিনের অন্যান্য সময়ে বেশি করে খাবার খাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যাবে, এর ফলে ওজন বৃদ্ধি পাবে। আপনি জানেন যে অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা হৃদরোগ ও মৃত্যু ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।

শুরু হয়েছে নতুন বছর নতুন বছর নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার সবচেয়ে বড় সুযোগ নিয়ে আসে।নতুন বছরে আপনার বদঅভ্যাস গুলো ত্যাগ করার প্রতিজ্ঞা করুন।যা আপনাকে আরো অনেক গুলো নতুন বছর দেখতে সাহায্য করবে। সুস্থ থাকুন,সুন্দর হোক আপনার নতুন বছর।