রোববার   ১৯ জানুয়ারি ২০২০   মাঘ ৬ ১৪২৬   ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

বরিশাল প্রতিবেদন
ব্রেকিং:
মানবতার কল্যাণ কামনায় শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমা আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে লাখো মুসল্লি তুরাগতীরে পুরো পরীক্ষাই পেছাবে, নতুন সূচি আজ : শিক্ষামন্ত্রী ফাইভজির স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত হবে শিগগির: অর্থমন্ত্রী ঢাকা সিটি ভোট পিছিয়ে ১ ফেব্রুয়ারি করার সিদ্ধান্ত ইসির এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা পিছিয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সোমবার মান্নানের জানাজা এমপি আব্দুল মান্নানের মৃত্যুতে গভীর শোক রাষ্ট্রপতির পদ্মা সেতুর ২২তম স্প্যান বসছে এ মাসেই আব্দুল মান্নানের মৃত্যুতে ওবায়দুল কাদেরের শোক এমপি মান্নানের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক বয়ানে চলছে দ্বিতীয় দিনের ইজতেমা,কাল আখেরী মোনাজাত বিপিএলে প্রথম শিরোপার স্বাদ পেলো রাজশাহী আদালতে মজনুর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাউন্ড সিস্টেমে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা যাবে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এসএসসি শুরু ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধনে উত্তীর্ণদের সনদ ১৯ জানুয়ারি প্রথম আলোর সম্পাদকসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ২৫ জানুয়ারি থেকে এক মাস কোচিং সেন্টার বন্ধ আমরা ক্রসফায়ারকে সাপোর্ট করতে পারি না : ওবায়দুল কাদের
৫১

১৫ ডিসেম্বর,১৯৭১

অধিকাংশ রণাঙ্গনে চলছিল মুক্তিকামী জনতার উল্লাস

প্রকাশিত: ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯  

চারদিক থেকে পরাজিত হতে হতে একাত্তরের এই দিনে পাকিস্তানি বাহিনী বুঝে ফেলে যুদ্ধে তাদের পরাজয় নিশ্চিত। তারা শুধু নিশ্চিত হতে চাইছিল তারা যখন আত্মসমর্পণ করবে তখন তাদের হত্যা করা হবে না। কেননা মার্কিন ৭ম নৌবহরকে মোকাবিলা করার জন্য ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ভারতীয় নৌবাহিনীর সমর্থনে সোভিয়েত রণতরির ২০টি জাহাজ ভারত মহাসাগরে অবস্থান গ্রহণ করে। এরপর মার্কিন রণতরি ৭ম নৌবহর যুদ্ধে অংশ নেওয়া থেকে নিজেদের গুটিয়ে ফেলে। পাকিস্তানের মনে যুদ্ধে সাহায্য পাবার যেটুকু আশা ছিল সেটাও এর সঙ্গে শেষ হয়ে যায়।

একাত্তরের ১৫ ডিসেম্বর দেশের অধিকাংশ রণাঙ্গনে চলছিল মুক্তিকামী জনতার বিজয়োল্লাস। অসংখ্য নদীনালা, খালবিলসহ নানা প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে ইতিমধ্যে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী চারদিক থেকে ঘেরাও করে ফেলায় অবরুদ্ধ ঢাকা কার্যত অচল হয়ে পড়ে।

ঢাকাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় ক্রমাগতভাবে ভারতীয় মিগের একের পর এক বোমাবর্ষণ ও স্থল পথে মিত্রবাহিনীর আর্টিলারি আক্রমণে দখলদার বাহিনীতে চরম বিপর্যয় নেমে আসে। পাকিস্তানি জেনারেল নিয়াজির দেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে ১৫ ডিসেম্বর বিকালে জেনারেল মানেক শ হানাদার বাহিনীকে জানিয়ে দেন যে, শর্তহীন আত্মসমর্পণ না করলে যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে সম্মতি দেওয়া হবে না।

এসময় প্রস্তাবের প্রতি মিত্রবাহিনীর আন্তরিকতার নিদর্শন হিসেবে ১৫ ডিসেম্বর বিকাল ৫টা থেকে ১৬ ডিসেম্বর সকাল ৯টা পর্যন্ত ঢাকার ওপর বিমান হামলা বন্ধ রাখা হবে বলে পাকিস্তানি জেনারেলকে জানিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি আত্মসমর্পণ করলে মিত্রবাহিনী কোনো প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াবে না বলেও পাকিস্তানি জেনারেলকে আশ্বস্ত করা হয়। তবে, সেই সঙ্গে পাকিস্তানি জেনারেলকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে এও বলা হয় যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শর্তহীন আত্মসমর্পণ না করলে ১৬ ডিসেম্বর সকাল ৯টা থেকে সর্বশক্তি নিয়ে আক্রমণ করা ছাড়া মিত্রবাহিনীর কোনো গত্যন্তর থাকবে না। জেনারেল নিয়াজী তাত্ক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে পাকিস্তান হেডকোয়ার্টারকে অবহিত করেন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা উপলব্ধি করে ১৫ ডিসেম্বর গভীর রাতে পাকিস্তানের তদানীন্তন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ঢাকায় জেনারেল নিয়াজিকে নির্দেশ দেন যে, ভারতের সেনাবাহিনী প্রধান পাকিস্তানিদের আত্মসমর্পণের জন্য যে সব শর্ত দিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার জন্য তা মেনে নেওয়া যেতে পারে। নিয়াজি তাত্ক্ষণিকভাবে তা ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল মানেক শকে অবহিত করেন।

এদিনটি মূলত দখলদার বাহিনীর চূড়ান্ত আত্মসমর্পণের দিন-ক্ষণ নির্ধারণের মধ্যে দিয়ে অতিবাহিত হয়।

এই বিভাগের আরো খবর